অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপস | বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও বিমান টিকিট বুকিং অ্যাপস

আমাদের টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল জয়েন করুন
WhatsApp Channel Join Now
Telegram Channel Join Now

আপনি কি অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপস সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? আপনার উত্তরটি যদি হ্যাঁ হয় তাহলে বলবো সঠিক জায়গায় এসেছেন । কারণ আজকের পোস্টে আমরা অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপস বিশেষ করে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও বিমান টিকিট বুকিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানব ।

আমরা বাসে চলাচল করার জন্য সাধারণত বাস কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটি । ট্রেনে চলাচলের জন্য, লঞ্চে চলাচলের জন্য অথবা বিমানে যাতায়াতের জন্য কাঙ্খিত কাউন্টার থেকে টিকিট বুকিং করতে । কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তির আপডেটের কারণে এখন আর কাউন্টারে যেতে হয় না ।

আপনি চাইলে হাতে থাকা স্মার্টফোন অথবা কম্পিউটার ব্যবহার করার মাধ্যমে ঘরে বসে অনলাইন টিকিট কাটতে পারেন । বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি অ্যাপস তৈরি করেছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি খুব সহজে বাস, ট্রেন লঞ্চ অভিমানের টিকিট কাটতে পারবেন ।

আমরা অনেকে হয়তো এই বিষয় সম্পর্কে ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি । আমাদের অনেক ভাই ও বোন অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করার মাধ্যমে বাস, ট্রেন লঞ্চ টিকিট কাটা শুরু করে দিয়েছেন । আজকের পোস্টে আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ে বহুল ব্যবহৃত সেরা কিছু জনপ্রিয় অনলাইন টিকিট কাটার অ্যাপস সম্পর্কে ।

আরও পড়ুন ➝ উত্তরবঙ্গের ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়া ২০২৬

আপনি যদি এই বিষয়ে জানতে আগ্রহী হন তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য তৈরি করা আছে । তাই অবশ্যই পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন । তো চলুন মূল আলোচনা শুরু করা যাক ।

অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপস ধরণ

বর্তমানে অনলাইনে টিকিট কাটার বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস রয়েছে । এখন আমরা জানবো বর্তমানে ব্যবহৃত অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপসগুলোর ধরন সম্পর্কে । নিচে তা উল্লেখ করা হয়েছে ।

  • বাসের টিকিট
  • লঞ্চের টিকেট
  • ট্রেনের টিকিট
  • বিমানের টিকিট

সাধারণত এই চার ধরনের অনলাইন টিকিট কাটার অ্যাপস রয়েছে । আপনি চাইলে কাঙ্খিত টিকেট অনলাইন এর মাধ্যমে খুব সহজে কাটতে পারবেন ।

জনপ্রিয় কিছু অনলাইন টিকিট কাটার অ্যাপস

আমাদের বাংলাদেশে বেশ কিছু জনপ্রিয় অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপস রয়েছে । আমরা অনেকেই হয়তো ওই অ্যাপসগুলো সম্পর্কে ইতিমধ্যে পরিচিত রয়েছি । আবার আমাদের অনেক ভাই ও বোন হয়তো এই অ্যাপস গুলো সম্পর্কে জানেন না ।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বহুল জনপ্রিয় এবং ব্যবহৃত সেরা কিছু অনলাইন টিকিট কাটার অ্যাপস এখন আপনাদের সামনে তুলে ধরব নিচে । তা তুলে ধরা হয়েছে ।

  • Shohoz App

  • bdtickets

  • BusBD

  • Bangladesh Railway App

  • ShareTrip

  • GoZayaan)

এখানে উল্লেখ করা সবগুলো অনলাইন টিকিট কাটার অ্যাপস আপনি গুগল প্লে স্টোরে পেয়ে যাবেন । তাছাড়া আপনি যদি কাঙ্ক্ষিত অ্যাপ গুলো গুগল প্লে স্টোরে নাও পান তাহলে আপনি গুগলে সার্চ দিবেন তাহলে পেয়ে যাবেন ।

কীভাবে অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপস কাজ করে

অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপস মূলত ভ্রমণকে সহজ ও ঝামেলামুক্ত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে । এই ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে প্রথমে স্মার্টফোনে অ্যাপটি ইনস্টল করতে হয় । ইনস্টল করার পর ব্যবহারকারীকে নিজের মোবাইল নম্বর বা ইমেইল দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় ।

অ্যাকাউন্টে লগইন করার পর বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা বিমানের টিকিট খোঁজার অপশন দেখা যায় । ব্যবহারকারী নিজের যাত্রার স্থান, গন্তব্য এবং যাত্রার তারিখ নির্বাচন করে । অ্যাপটি তখন বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির উপলব্ধ টিকিট দেখায় । প্রতিটি টিকিটের সাথে সময়, ভাড়া এবং আসন সংখ্যা উল্লেখ থাকে । পছন্দের টিকিটটি নির্বাচন করার পর আসন বেছে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়

এরপর যাত্রীর নাম, ফোন নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয় । সব তথ্য ঠিক থাকলে পেমেন্ট অপশনে যেতে হয় । পেমেন্ট করা যায় বিকাশ, নগদ, কার্ড বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে । পেমেন্ট সম্পন্ন হলে অ্যাপটি সঙ্গে সঙ্গে টিকিট কনফার্ম করে ।টিকিটের একটি ডিজিটাল কপি অ্যাপের মধ্যেই সংরক্ষিত থাকে ।

অনেক সময় ইমেইল বা এসএমএসের মাধ্যমেও টিকিট পাঠানো হয় । যাত্রার সময় এই ডিজিটাল টিকিট দেখালেই ভ্রমণ করা যায় । এভাবে অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপস মানুষের সময় ও কষ্ট দুটোই বাঁচায় ।

অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপসের ফিচার সমূহ

অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফিচার নিচে তুলে ধরা হয়েছে ।

  • এই অ্যাপগুলোতে খুব সহজে বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা বিমানের টিকিট খোঁজা যায় ।
  • ব্যবহারকারী নিজের পছন্দমতো যাত্রার তারিখ ও সময় নির্বাচন করতে পারে ।
  • অ্যাপে রিয়েল-টাইম টিকিটের প্রাপ্যতা দেখানো হয় ।
  • আসন নির্বাচন করার সুবিধা থাকায় যাত্রী আগে থেকেই নিজের সিট বেছে নিতে পারে ।
  • বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির টিকিট একসাথে তুলনা করার অপশন থাকে ।
  • ভাড়া ও সময় অনুযায়ী ফিল্টার করার সুবিধা দেওয়া হয় ।
  • অ্যাপে একাধিক পেমেন্ট মেথড সাপোর্ট করে ।
  • বিকাশ, নগদ, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিং দিয়ে পেমেন্ট করা যায় ।
  • পেমেন্ট সম্পন্ন হলে সঙ্গে সঙ্গে টিকিট কনফার্মেশন পাওয়া যায় ।
  • ডিজিটাল টিকিট অ্যাপের ভেতরেই সংরক্ষিত থাকে ।
  • ইমেইল ও এসএমএসের মাধ্যমে টিকিট নোটিফিকেশন পাঠানো হয় ।
  • যাত্রার আগে রিমাইন্ডার নোটিফিকেশন দেওয়া হয় ।
  • কিছু অ্যাপে টিকিট ক্যানসেল ও রিফান্ড সুবিধাও থাকে ।
  • ২৪/৭ কাস্টমার সাপোর্ট ফিচার অনেক অ্যাপে পাওয়া যায় ।

অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপসের সুবিধা কি কি

  • অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপস ব্যবহার করলে ঘরে বসেই টিকিট কেনা যায়।
  • এতে টিকিট কাউন্টারে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা থাকে না।
  • যেকোনো সময়, দিন বা রাত, টিকিট কাটার সুবিধা পাওয়া যায়।
  • একটি অ্যাপ থেকেই বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা বিমানের টিকিট দেখা যায়।
  • ভাড়া ও সময় সহজে তুলনা করা যায় বলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
  • নিজের পছন্দমতো আসন আগে থেকেই বেছে নেওয়া যায়।
  • পেমেন্ট প্রক্রিয়া দ্রুত ও নিরাপদ হওয়ায় সময় বাঁচে।
  • ডিজিটাল টিকিট থাকায় কাগজের টিকিট হারানোর ভয় থাকে না।
  • ইমেইল বা এসএমএসে টিকিট পাওয়ায় সব তথ্য হাতের কাছেই থাকে।

অনলাইনে টিকিট কাটার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত

  • প্রথমে অ্যাপ বা ওয়েবসাইটটি বিশ্বাসযোগ্য কিনা তা যাচাই করা উচিত।
  • সঠিক যাত্রার তারিখ ও সময় নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • যাত্রার স্থান এবং গন্তব্য ঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কিনা তা ভালোভাবে মিলিয়ে নিতে হয়।
  • টিকিটের ভাড়া ও অতিরিক্ত চার্জ আছে কিনা সেটি দেখে নেওয়া উচিত।
  • আসন নির্বাচন করলে সেটি ঠিকভাবে বুক হয়েছে কিনা নিশ্চিত হতে হবে।
  • নিজের নাম ও ফোন নম্বর সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কিনা তা আবার পরীক্ষা করা দরকার।
  • পেমেন্ট করার আগে মোট বিলের পরিমাণ ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।
  • নিরাপদ পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখা জরুরি।
  • পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর টিকিট কনফার্মেশন এসেছে কিনা তা যাচাই করতে হবে।
  • ডিজিটাল টিকিটটি অ্যাপ, ইমেইল বা এসএমএসে সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।
  • ক্যানসেল ও রিফান্ড নীতিমালা আগে থেকে জেনে নেওয়া উচিত।

আমাদের শেষ কথা

সম্মানিত পাঠক, আজকের পোস্টটিতে আমরা বর্তমান সময়ে বহুল ব্যবহৃত সেরা কিছু অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপস সম্পর্কে জানতে পেরেছি । তাছাড়া ওই এপস গুলোতে কি কি ফিচার্স রয়েছে, সুবিধা কি কি এবং অ্যাপস গুলো কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে । উপরের তথ্যগুলো ফলো করলে আশা করি আপনি খুব সহজে বাস, ট্রেন, লঞ্চ এবং বিমানের টিকিট কাটতে পারবেন ।

আশা করি আমার এই পোস্টটি পড়ে আপনার সামান্যতম হলেও উপকার হয়েছে । আপনি যদি সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার পর সামান্যতম উপকার পান তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধু-বান্ধবের সাথে পোস্টটি শেয়ার করুন । তাছাড়া আমার এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার কোন মন্তব্য থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন । ধন্যবাদ ।

আপনার পছন্দ হতে পারে এমন আরও পোস্ট দেখুন
ঢাকা টু সিলেট বাস ভাড়া: বাসের সময়সূচী ও কাউন্টার নম্বর
ঢাকা টু সিলেট বাস ভাড়া

আমরা যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে সাধারণত বাস ব্যবহার করে থাকি । দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যাতায়াতের জন্য বাস একমাত্র বিস্তারিত পড়ুন

চাঁদপুর থেকে ঢাকা লঞ্চের সময়সূচি ও ভাড়া ২০২৬
চাঁদপুর থেকে ঢাকা লঞ্চের সময়সূচি

আপনি কি চাঁদপুর থেকে ঢাকা লঞ্চের সময়সূচি ও ভাড়ার তালিকা খুঁজতেছেন? যদি আপনার উত্তরটি হ্যাঁ হয়ে থাকে তাহলে সঠিক জায়গাতে বিস্তারিত পড়ুন

ঢাকা টু কুমিল্লা বাসের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
ঢাকা টু কুমিল্লা বাসের সময়সূচী

আপনি কি ঢাকা টু কুমিল্লা বাসের সময়সূচী খুঁজতেছেন? আপনার উত্তরটি যদি হ্যাঁ হয় তাহলে সঠিক জায়গাতে এসেছেন । কেননা আজকের বিস্তারিত পড়ুন

এমভি পারাবত ১৮ ঢাকা টু বরিশাল লঞ্চের সময়সূচী ও ভাড়া
এমভি পারাবত ১৮ ঢাকা টু বরিশাল লঞ্চের সময়সূচী ও ভাড়া

আমাদের অনেক ভাই ও বোন এমভি পারাবত ১৮ ঢাকা টু বরিশাল লঞ্চের সময়সূচী সম্পর্কে জানতে চান । আপনিও কি এই বিস্তারিত পড়ুন

দেশ ট্রাভেলস বাসের সকল কাউন্টারের ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার
দেশ ট্রাভেলস বাসের সকল কাউন্টারের ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার

বর্তমানে বাংলাদেশে অসংখ্য বিলাসবহুল ও দ্রুতগতির বাস রয়েছে । তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দেশ ট্রাভেলস বাস । এই বাসটি অত্যন্ত বিস্তারিত পড়ুন

যশোর টু ঢাকা বাস ভাড়া ও সময়সূচী ২০২৬
যশোর টু ঢাকা বাস ভাড়া

আপনি কি যশোর টু ঢাকা বাস ভাড়া কত এ সম্পর্কে জানতে চান? আপনার উত্তরটি যদি হ্যাঁ হয় তাহলে সঠিক জায়গাতে বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Reply

error: Content is protected !!